শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭ 
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / জাতীয় / ভারতে থেকে পেঁয়াজ আসার খবরে দাম কমেছে কেজিতে ১০-২০ টাকা

ভারতে থেকে পেঁয়াজ আসার খবরে দাম কমেছে কেজিতে ১০-২০ টাকা

আগের এলসির বিপরীতে গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) টেন্ডার হওয়া পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দিতে পারে ভারত। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হতে পারে বলে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের জানিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এদিকে পেঁয়াজ আসার খবরে একদিনের ব্যবধানে হিলির পাইকারি বাজারে দাম কমেছে কেজিতে ১০-২০ টাকা। অপরদিকে পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।

গত সোমবার অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে হঠাৎ করেই ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ওইদিন বন্দর দিয়ে কোনও পেঁয়াজ আমদানি হয়নি।

হিলি স্থলবন্দরের আড়তগুলোতে পেঁয়াজ কিনতে আসা খালেক হোসেন বলেন, সোমবার ভারত যেই পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলো, তখন দাম লাফিয়ে বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়াতে থাকে, আগের দিন যে পেঁয়াজ আমরা ৩৫ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে গেছি, পরদিন তা বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়ে যায়। এমনকি পেঁয়াজ বিক্রির কোনও রিসিটও দিচ্ছিলো না। প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় যেন পেঁয়াজের দাম বাড়ছিলো। পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকের মধ্যে পড়ি। আজ আবার পেঁয়াজ কিনতে এসে দেখি দাম কিছুটা কমেছে। শুনলাম পেঁয়াজ নাকি আজকে বন্দর দিয়ে ঢুকবে এই খবরেই দাম কমে গেছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে আড়তগুলোতে ভালোমানের প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫২ থেকে ৬০ টাকা, একটু খারাপ মানেরটা ৪০ টাকা দরে ও খুচরাতে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ আসছে এমন খবরে দাম কমেছে
পেঁয়াজ আসছে এমন খবরে দাম কমেছেহিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক বাবলুর রহমান বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি দেখে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আমরা এলসি খুলেছিলাম। এর বিপরীতে পেঁয়াজ লোডিং হয়েছে, আমার নিজেরই ৩০/৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে, দেশে প্রবেশের অপেক্ষায়। অন্যান্য আমদানিকারকদের ট্রাকও রয়েছে। এই পেঁয়াজগুলো লোডিং কমপ্লিট হওয়ার পর আসতেই ৬/৭ দিন সময় লাগে, ৫/৬ দিন ধরে পেঁয়াজগুলো ট্রাকে রয়েছে, আবার তিনদিন ধরে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রয়েছে। এতে করে ৯ দিন হয়ে গেলো। এর ওপর বৃষ্টি হচ্ছে, এতে ত্রিপল বাধা অবস্থায় পেঁয়াজগুলো নষ্ট হচ্ছে। পেঁয়াজগুলো দ্রুত না আসলে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, সোমবার ভারত সরকার হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন রবিবারে যেসব পেঁয়াজ রফতানির জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে শুধুমাত্র ওইগুলোর বিপরীতে পেঁয়াজ রফতানি করার অনুমতি দিতে পরে। একইসঙ্গে যে আড়াইশ’ ট্রাক আটকা রয়েছে ও ১০ হাজার এলসি দেওয়া রয়েছে তার বিপরীতেও পেঁয়াজগুলো দেওয়ার জন্য আমরা তাদের অনুরোধ জানিয়েছি। এ বিষয়ে তারা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বলেন, গত বছর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তবে এবারে বিষয়টি মনিটরিং ও বাজার তদারকি জোরদার করার নির্দেশনা এসেছে। কেউ যেন পেঁয়াজ মজুত থাকার পরেও কৃত্রিম সংকট করে মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সে জন্য কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

error: Content is protected !!