রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ 
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / সাতক্ষীরা / আশাশুনি / আশাশুনিতে দুই চেয়ারম্যান সমর্থকদের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত, আহত-১৫ ॥ আটক-১০

আশাশুনিতে দুই চেয়ারম্যান সমর্থকদের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত, আহত-১৫ ॥ আটক-১০

প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম ও সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা সরবত আলী মোল্যার মৃত্যু হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১টার দিকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সরবত আলী মোল্যা খাজরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তার মৃত্যুর রাতেই নিজ বাড়ী গদাইপুরে খবর আসলে উত্তেজিত জনতা শাহনেওয়াজ ডালিমের বাড়ীতে ইটপাটকেল নিক্ষেপকরে হামলা চালায়। এদিকে নিহতের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে। আশাশুনি থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম জানান, খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুর এলাকায় মনজু মোল্যা,নুর মোহাম্মদ মোল্যা,নুর আহমেদ মোল্যা,ইলিক মাষ্টার,ময়নুল মোল্যা,ওয়াদুদ সানা,কালু সানা, রবিউল মোল্যাসহ আরও বেশ কয়েক জনের মিলে মোট ২০০ বিঘার একটি মৎস্য ঘের নিয়ে একই এলাকার সিরাজুল ইসলাম মোল্যা ওরফে জাল সিরাজুলের সাথে বেশ কিছু দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই ঘটনায় জাল সিরাজুল ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শাহনেওয়াজ ডালিমের সেল্টারে তার ভাই টগরের নেতৃত্বে প্রায় সময় ওই ঘেরে মাছ জোর করে লুটপাট করে আসছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘেরের মাছ লুট করে পরের দিন শক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গদাইপুর মৎস্য সেটে খোকন নামে তাদের এক লোক মাছ বিক্রি করতে আসে। এসময় নিহত সরবত মোল্যার ছেলে সবুজের সাথে ওই মাছ নিয়ে কথাকাটা কাটি হয়। এর এক পর্যায়ে ডালিম চেয়ারম্যানের ভাই আহসান হাবিব টগর সবুজকে গলাধাক্কা দিলে মাছের কাটায় থাকা লোকজন এবং সবুজ টগরকে মারপিট করে। এসময় উভয় গ্রুপের টগর, কাজল, ফকির, মোমিন, মফিজুলসহ ৫ জন আহত হয়।

ঘটনার পরপরি সকাল ৯টার দিকে ডালিম চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জন সবুজ মোল্যার বাড়ীসহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতিআসাদুল এবং মুকুল ও ওহিদুলের বাড়ীতে সসস্ত্র হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় সবুজের বাবা সরবত আলী মোল্যার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম। এঘটনায় গুরুতর আহত হন সরবত আলী মোল্যা ও তার স্ত্রী শেফালি বেগম,রব্বানী মোল্যা ও তার ভাতিজাসহ অনন্ত ১০ জন। আহতদেরকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্র্তি করা হয়। এদের মধ্যে সরবত আলী মোল্যার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত সরবত আলী মোল্যা (৫৫) গদাইপুর গ্রামের মৃত সামছুর মোল্যার ছেলে।

এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চেয়ারম্যান ডালিমের ভাই জুলি, বাচ্চু, বাচ্চুর জামাই সাদ্দাম ও বাচ্চুর ছেলে কাইয়ুম ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলীসহ ১০ জনকে আটক করেছে।

এদিকে, শক্রবার মধ্য রাতে সরবতের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুসের লোকজন একত্রিত হয়ে চেয়ারম্যান ডালিমের বাড়িতে হামলা চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বাড়ীর জানালা ও গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এব্যাপারে চেয়ারম্যান ডালিমের সাথে বার বার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পওে তার স্ত্রী রেহেনা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, তার বাড়ি ভাঙচুরসহ নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, দলিলসহ সব মালামাল লুটপাট করে নিয়েগেছে সাবেক চয়ারম্যান কুদ্দুসের লোকজন।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনর্চাজ আবদুস সালাম জানান, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে, হামলা-পালটা হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।

error: Content is protected !!