শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ 
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / All News / নিরাপত্তাহীনতায় ভোমরা স্থলবন্দরের সীমানা!

নিরাপত্তাহীনতায় ভোমরা স্থলবন্দরের সীমানা!

সাতক্ষীরার উত্তরে যশোর। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। পূর্বে খুলনা জেলা ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। অবস্থানগত দিক দিয়ে সাতক্ষীরা জেলার অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে। সাতক্ষীরার ১৩৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থলসীমানা আর ১০০ কিলোমিটার জল সীমানা।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর নতুন পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। তবে ভারত থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কতটা নিরাপদ সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা?

গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে সাতক্ষীরা সদরের বৈকারী সীমান্ত এলাকা থেকে কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালী সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। কালিয়ানী সীমান্ত এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজিবি সদস্য বলেন, বর্তমানে টহল বা আমাদের ডিউটির সময় বাড়ানো হয়েছে। কালিয়ানী সীমান্ত এলাকায় পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে আমরা চারজন ডিউটি করছি, যা অত্যন্ত কষ্টের।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে ভারত থেকে বিএসএফের সদস্যরা অসুস্থ ব্যক্তিদের আমাদের দিকে পুশব্যাক করছে। তবে আমরা তাদের কোনোভাবেই প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছি না।

বিজিবি ও বিএসএফের এত নিরাপত্তার মধ্যে কি চোরাইপথে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করা সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। সীমান্তবর্তী এলাকায় রয়েছেন, অবৈধভাবে পারাপার করার কাজে নিয়োজিত দালাল। অবৈধপথে ভারতে পাঠানো বা ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার কাজ করেন এসব দালাল।

কালিয়ানী সীমান্তে এমন এক দালালের সঙ্গে পরিচয় হয়। সংবাদকর্মী পরিচয় গোপন করে ভারতে যাওয়া-আসার পদ্ধতিটা কি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কোনো ব্যাপার নয়। আমি ওইসবের কাজ করি। যেতে হলে ছয় হাজার টাকা লাগবে। আবার ফিরতে গেলেও ছয় হাজার হলেই হবে। কোনো প্রকার বিজিবি বা বিএসএফের বাধার মুখে পড়তে হবে না।

অন্যদিকে কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি এলাকায় বাংলাদেশ-ভারতকে আলাদা করেছে সোনাই নদী। যে নদী অতিক্রম করেই চোরাইপথে বাংলাদেশ ও ভারতীয় জিনিসপত্র আনা নেয়া করা হয়। এ নদীতেই গোসল করেন ভারতীয় ও বাংলাদেশ পারের মানুষ।

কেড়াগাছি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল হোসেন জানান, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র আসে বিভিন্ন সময়। আসার কোনো নির্ধারিত সময় নেই। যেকোনো মুহূর্তে আসে। বিজিবির নজরদারির মাঝেও কীভাবে আসে সে প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি। অবৈধভাবে ভারতে যাতায়াত হয় কীনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে দু-একজন যায়-আসে।

সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দিন খন্দকার জানান, করোনাভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সীমান্ত এলাকাগুলোতে টহল দ্বিগুণ করা হয়েছে। বিশেষ টহল, রুটিন টহল ছাড়াও চোরাচালান রোধে টহল রয়েছে।

কাশিয়ানী সীমান্ত এলাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। তবে আমাদের যেটুকু জনবল রয়েছে সেটুকুরই সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি।

error: Content is protected !!