বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬ 
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / আন্তর্জাতিক / ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কারে ভূষিত শেখ হাসিনা

‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কারে ভূষিত শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট :

বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাপক সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননা পুরস্কার দিয়েছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন এবং ইমিউনাইজেশন- জিএভিআই। এই পুরস্কার গ্রহণের পর গণমাধ্যমে জানানো প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কার দেশবাসীর প্রতি উৎসর্গ করেছেন।

নিউইয়র্কে সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদরদফতরে ‘ইমিউনাইজেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন এবং ইমিউনাইজেশনের (জিএভিআই) বোর্ড সভাপতি ড. এনগোজি অকোনজো ইবিলা এবং সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেথ ফ্রাংকিলন বার্ক্লে।

ড. এনগোজি অকোনজো তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশংসা করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

ওই সম্মাননা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই পুরস্কার আমার না। এটা বাংলাদেশের জনগণকে আমি উৎসর্গ করলাম। ১৯৯৬ সালে আমি যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসি, তখন পরিস্থিতি এ রকম ছিল না। প্রথমে আমাদের দেশের মানুষের একটু আপত্তি ছিল। কিন্তু আমি নিজে মানুষের কাছে যাই। নিজে ভ্যাকসিন খাওয়াতে শুরু করি। এভাবে করার ফলে সারাদেশে মানুষের মধ্যে এমন একটা চেতনা জাগ্রত হয়েছে যে তারা নিজেরাই এখন টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এই চেতনা ধরে রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, টিকাদান কর্মসূচি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের সাফল্যের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাড়ে ১৬ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি অনেক বেশি গতি পেয়েছে এবং সেই সঙ্গে এসেছে সাফল্য। ১৯৯০ সালে যেখানে দেশের ৬০ শতাংশ শিশু টিকা পেত, এখন তা ৮২ শতাংশের বেশি। আর এক বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রথম টিকা নেওয়ার হার প্রায় ৯৯ শতাংশ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে অব্যাহত সমর্থন ও ভূমিকা রেখে চলায় ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সসহ অন্যান্য অংশীদারদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ছাড়াও স্কুলে এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়ে আমরা বরাবরই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ এর মাধ্যমে আমরা দেশকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই, যেখানে সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত হবে।

টিকার আওতা সম্প্রসারণের তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) অধীনে আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে জাতীয় ডিটিপি ৩ (ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার ও হুপিং কাশি) কাভারেজ ৮৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৮ শতাংশ। এমসিসি ১ কভারেজ ৭৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৭ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে সব জেলায় ভ্যাকসিনের কভারেজ বেড়ে হয়েছে ৮২ শতাংশের বেশি। নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যেও টিকাদান কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার আগে অনুষ্ঠানে প্রসংশাপত্র পড়ে শোনান নাইজেরিয়ার সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনগোজি ওকোনজো-আইয়েলা।

পত্রে তিনি বলেন, এই পুরস্কার তাদের জন্য, যারা শিশুদের জীবন রক্ষার জন্য জরুরি টিকাদানে উদ্যোগী হয়েছেন এবং কোনও শিশু যাতে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন। শুধু টিকাদান কর্মসূচি নয়, শিশু অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নও শেখ হাসিনা একজন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা জিএভিআই বা ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স প্রধান নির্বাহী সেথ বার্কলে বলেন, টিকাদান কর্মসূচিতে সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি একজন সত্যিকারের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি শিশুদের সুস্থভাবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন।

error: Content is protected !!