বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ 
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / আইন ও আদালত / সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্য বিভাগের দুদকের মামলায় সিভিল সার্জন ডা: তৌহিদুর রহমান জেল হাজতে

সাতক্ষীরায় স্বাস্থ্য বিভাগের দুদকের মামলায় সিভিল সার্জন ডা: তৌহিদুর রহমান জেল হাজতে

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেজে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ১৬ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়েরকৃত দূর্নীতির মামলার আসামী সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ তৌহিদুর রহমানকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

৯ সেপ্টম্বর সোমবার সাতক্ষীরার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান ওই নির্দেশ দেন। আসামী তৌহিদুর রহমান হাইকোর্টের আদেশে ছয় সপ্তাহের জন্য জামিনে ছিলেন। ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। উক্ত জামিন শেষ হওয়ার পর সোমবার স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন আদালত।

চাঞ্চল্যকর এই দুর্নীতির মামলার অপর আসামী সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব রক্ষক আনোয়ার হোসেন গত ২৭ আগস্ট আত্মসমার্পন করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাকেও জেলা হাজতে পাঠান। এছাড়া এ মামলার অপর পলাতক আসামী স্টোর কিপার ফজলুল হককে সম্প্রতি হাইকোর্ট এক আদেশে দেশ ত্যাগ না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সুত্র জানান এ মামলার প্রধান আসামী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান গত ২৯ জুলাই হাইকোর্টে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে তাঁকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন এবং ওই সময়ের মধ্যে নিন্ম আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। উক্ত নির্দেশনা অনুযায়ী তৌহিদুর রহমান গত ২৫ আগস্ট সাতক্ষীরার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিননামা সম্পাদনের আবেদন করলে আদালত তাঁর জামিন বহাল রেখে জামিননামা সম্পাদনের নির্দেশ দেন।

জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৯ সেপ্টম্বর তিনি আত্মসমার্পন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানীতে অংশ নেন দুদকের পিপি এড. আসাদুজ্জামান দিলু।

উল্লেখ্য, সদর হাসপাতালের স্টোর কিপার ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৭ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬৪৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা আরও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সে শ্যামনগর উপজেলার ইছাপুর গ্রামের মৃত আজিজুল হকের পুত্র।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ১৬ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দূর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় ঢাকার উপ সহকারি পরিচালক জালাল উদ্দীন বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামী করে স্পেশাল ২৫/১৯ নম্বর ওই মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলার অপর আসামিরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের তৎকালীন স্টোর কিপার একেএম ফজলুল হক, হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেন, রাজধানীর ২৫/১ তোপখানা রোডের বেঙ্গল সায়েন্টেফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির কর্ণধার ঠিকাদার মো. জাহেরউদ্দিন সরকার। তার ছেলে মো. আহসান হাবিব। জাহেরউদ্দিনের বাবা মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার হাজী আবদুস সাত্তার সরকার এবং তার ভগ্নিপতি ইউনিভার্সেল ট্রেড কর্পোরেশনের কর্ণধার মো. আসাদুর রহমান, জাহের উদ্দিন সরকারের নিয়োগকৃত প্রতিনিধি কাজী আবু বকর সিদ্দিক, মহাখালী নিমিউ অ্যান্ড টিসির সহকারী প্রকৌশলী এএইচএম আব্দুল কুদ্দুস।

 

error: Content is protected !!