শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬ 
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / সাতক্ষীরা / সাতক্ষীরার সন্তান মেরিনার শুভ ও তার টিমের প্রচেষ্টায় জীবন ফিরে পেল ভারতীয় জেলে কানু দাস

সাতক্ষীরার সন্তান মেরিনার শুভ ও তার টিমের প্রচেষ্টায় জীবন ফিরে পেল ভারতীয় জেলে কানু দাস

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার সন্তান মেরিনার শুভ ও তার টিমের প্রচেষ্টায় জীবন ফিরে পেল ভারতীয় জেলে রবীন্দ্রনাথ দাস ওরফে কানু দাস। সাতক্ষীরা জেলা সদরের ভালুকা চাঁদপুর এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের সন্তান মোমশাদ দিনুরী শুভ। পেশায় তিনি একজন মেরিনার। চাকরির সুবাদে ছুটে চলতে হয় এক দেশ থেকে আরেক দেশে। ইন্ডিয়ার ডামরা পোর্ট থেকে লোডিং করে গত ১০/১৭/২০১৯ দুপুর ১ টায় কুতুবদিয়া আওটার এ্যংকরেজে থাকার সময় হলদিয়া(ভারত) থেকে কুতুবদিয়ায় (বাংলাদেশ) প্রায় ৬০০ কিলোমিটার ভেসে আসা ভারতীয় জেলে কানু দাস কে দেখতে পান এম ভি জাওয়াদ জাহাজে ক্যাপ্টেন এস এম নাসির উদ্দিন এবং চীফ ইজ্ঞিনিয়ার পুলোক কুমার ভাসকর। ৭ দিন পানিতে ভাসমান থাকা এই ভারতীয় জেলে কে জীবিত উদ্ধার করেছে এম ভি জাওয়াদ জাহাজের এর ক্যাপ্টেন এবং সাতক্ষীরার সন্তান মেরিনার শুভ ও টিম মেম্বাররা। এম ভি জাওয়াদ জাহাজে এ থাকা অবস্থায় হটাৎ ক্যাপ্টেন স্যার এবং চীফ অফিসার স্যার এর নজরে আসে কেউ একজন ভাসছে জাহাজের পোর্ট সাইডে এ। এর পর সবাই ছুটে গেলে একটা লাইফ জ্যাকেট এবং একটা লাইফবয়া ছুড়ে দেয়া হয়। লো টাইড এর প্রবল স্রোতে লোকটি শুধু মাত্র লাইফ জ্যাকেট টা ধরতে পারে। লাইফবয়া তার নাগালের বাহিরে চলে যায়। পরবর্তীতে ২ ঘন্টা ইঞ্জিন চালিয়ে পিছন দিকে ৩ নটিক্যাল মাইল দূরে গিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। কানু দাস জানায় হলদিয়ার অদূরে বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে ফিশিং করছিল তারা।

হটাৎ ঝড়ের কবলে পড়লে ফিশিং বোট উল্টে যায়। বোটের ভিতর ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন পানিতে ছিটকে পরে। বোটের ভিতর ৫ জন ছিল তাদের খবর অজানা। সব শেষ ১০ তারিখ সকালে অবধি ৩ জন এক সাথে সারভাইব করে যাচ্ছিল বোটের একটা বিচ্ছিন্ন অংশ ধরে। যাদের মধ্যে ২ জন পানিতে তলিয়ে যায় উদ্ধার করার ২/৩ ঘন্টা আগে। কানু দাস জানায় সে ৭ দিন হালকা বৃষ্টির পানি খেয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। তার বাড়ি ভারতের দক্ষিন ২৪ পরগানায়। এদিকে মৃত্যু দুয়ার থেকে ফিরে আসা কানু দাস নিজের জীবন বাঁচানেরা জন্য ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কানু দাস বলেন,উত্তাল সাগরে মাছের খাদ্য হচ্ছিলাম, তখনই দেবদূতের মত তারা হাজির হয়ে আমাকে তুলে আনলেন। বিশেষ করে মানে পড়ছে ক্যাপ্টেন এস এম নাসির উদ্দিন,চীফ ইজ্ঞিনিয়ার পুলোক কুমার ভাসকর,চিপ অফিসার প্রিয়তোষ চৌধুরী,সেকেÐ ইজ্ঞিনিয়ার স্যমোল মজুমদার, ইজ্ঞিন ওয়াচকিপার মোমশাদ দিনুরী শুভর কথা। ভগবান তাদের বাঁচিয়ে রাখুক। আমি তাদের মঙ্গল কামনা করি। আমি তখন প্রায় মৃত্যু পথ যাত্রি। আমার বাহুতে ও ঘাড়ে মাছ কাঁমড়াচ্ছিল। গত ৭ দিন রাতে কখনো ঘুমাইনি। শুধুমাত্র হালকা বৃষ্টির পানি খেয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। বাবা,মা,ছেলে আর মেয়ের কাথা খুব মনে পড়ছিল। এদিকে গত শুক্রবার তাকে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উৎপল বড়ুয়া নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি সম্পের্কে জানতে শুভর পিতা জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন বিষয়টি আমি শুনেছি। আমার সন্তান এমন একটি কাজ করেছে আমি তার উপর খুব খুশি হয়েছি।

error: Content is protected !!