বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬ 
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / জাতীয় / ম্যাজিস্ট্রেটদের ফৌজদারি ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব ডিসিদের

ম্যাজিস্ট্রেটদের ফৌজদারি ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব ডিসিদের

সাতক্ষীরা ২৪ নিউজ ডেস্ক:

বিভিন্ন জেলায় কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় বিচারিক ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব করেছেন জেলাপ্রশাসকরা। জনপ্রশাসন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী রোববার থেকে শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এ সব উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাঁচ দিনের এই সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব, সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত সচিবদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা নেবেন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এছাড়া রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বরাবরের মতই সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নেবেন ডিসিরা। নতুন করে প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে নির্দেশনা নেবেন ডিসিরা। এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও বৈঠক হবে ডিসিদের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষমতা প্রদানের ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮,১০৮,১১০,১৪৪,১৪৫ ও ১৪৭ ধারা সংশোধন করা হবে। বর্তমানে এই ক্ষমতা সরকার ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে থাকেন। কোনো কর্মকর্তা বদলী হলে ক্ষমতা প্রদানে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ঘটে। কার্যবিধিতে সংশোধন করে তা সরকারের পাশাপাশি ডিসিও যাতে দিতে পারেন সেই ধারাযুক্ত করা হবে।

ডিসি অফিসের সার্বিক নিরাপত্তা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সার্কিট হাউসের নিরাপত্তার জন্য ডিসির অধীনে একটি বিশেষায়িত সার্বক্ষণিক পুলিশ ফোর্স দাবি করেছেন ডিসিরা। ডিসিদের যুক্তি হলো জেলার উন্নয়ন সমন্বয় সভা, আইন শৃঙ্খলা সভাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয় ডিসি অফিসে। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা ডিসিদের সঙ্গে সাক্ষাতে আসেন। তাদের নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সব সময় পুলিশ ফোর্স পাওয়া যায় না। কারণ পুলিশ ফোর্সের সদস্যগণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত থাকেন। ডিসির অধীনে পুলিশ ফোর্স থাকলে যে কোনো সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যে কোনো অপরাধ দমণে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে পারবেন। এছাড়া ডিসিরা লিখেছেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থিত বিচারিক আদালত সমূহের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষাসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ডিসির অধীনে একটি বিশেষায়িত পুলিশ ফোর্স রাখা জরুরি।

জেলা প্রশাসকদের গাড়ির জ্বালানি তেলের সিলিং তুলে দেয়ার প্রস্তাব করেছেন ডিসিরা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডিসিদের দায়িত্ব বেড়েছে। এছাড়া ভিভিআইপি কিংবা ভিআইপিদের যাতায়াতে অনেক বেশি প্রোটেকশনের দরকার হয় এবং জ্বালানি খরচও বাড়ে। অতএব ডিসিদের জ্বালারিন তেলের সিলিং বাড়াতে হবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাবুর্চির পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। কারণ ডিসিদের অনেক সময় আপ্যয়নের আয়োজন করতে হয়। ডিসির বাসভবনে কোনো বাবুর্চি না থাকায় সমস্যা হয়। আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স বই যুগোপযোগী করার প্রস্তাব করেছেন ডিসিরা। ব্রিটিশ আমলে যে ধরনের বইয়ের প্রচলন ছিলো এখনো তা বহাল আছে। পুরাতন পদ্ধতির বই ৪/৫ বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। ডিসিরা লিখেছেন, পাসপোর্ট আকারের বই হলে বই নষ্ট হবে না। নতুন করে বই করা হলে এক পৃষ্ঠায় নবায়ন এবং অপর পৃষ্ঠায় পুলিশি প্রতিবেদন, গুলি ক্রয় ও খরচের হিসেবে লেখা থাকবে। এছাড়া প্রতিটি বইয়ে এবং পাতায় নিরাপত্তা প্রতীকসহ ক্রমিক নম্বার লেখা থাকলে লাইসেন্স জাল হওয়ার সুযোগ থাকবে না।

বিসিএস প্রশাসন একাডেমির পাঁচ মাসব্যাপী চলা আইন ও প্রশাসন বিষয়ক প্রশিক্ষণের সময় তিন মাস বাড়িয়ে আটমাস করে প্রশিক্ষণ শেষে একটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদানের প্রস্তাব করেছেন ডিসিরা। এতে কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। মোবাইল কোর্টের জব্দকরা মালামাল রাখা, সংরক্ষণ, পরিবহণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দরকার। এছাড়া জব্দকৃত মালামাল আনা নেয়ার জন্য শ্রমিকের মজুরি বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব করেছেন। ক্যাডার কর্মকর্তাদের অন্যান্য প্রশিক্ষণের সঙ্গে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সুবিধার্থে স্থায়ী বেঞ্চ সহকারির পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে মোবাইল কোর্ট সংক্রান্ত সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী হবে।

মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে নতুন করে প্রণীত মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ মোবাইল কোর্ট আইনে তফসিলভুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন তারা। মাদকাসক্ত গরিব জনগোষ্ঠিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এই সংক্রান্ত চিকিৎসা সহজ করার প্রস্তাব করেছেন ডিসিরা। উপজেলা পর্যায়ে ভূমি অফিসের ডিজিটাল রেকর্ড রুম নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল-দস্তাবেজ নষ্ট হচ্ছে। জনগণের ভোগান্তি বাড়ছে। দেওয়ানি মামলা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণী তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থার উন্নয়নে ডিসিরা উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল রেকর্ডরুম এবং রেকর্ড কিপারের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছেন। ই নামজারির জন্য সহকারি প্রোগ্রামারের পদ সৃজনের জন্য লিখেছেন ডিসিরা। বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন হয় এমন জমি রক্ষার প্রস্তাব করেছেন ডিসিরা। বিষয়টির ওপর একটি নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তাবও করেছেন তারা। উপজেলা পর্যায়ের ভূমি অফিস পাহারা দেয়ার জন্য দুইজন নৈশ প্রহরী নিয়োগের প্রস্তাব করেছেন ডিসিরা। ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তার জন্য মোটরসাইকেলের প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা ভূমি রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে দুই করে গ্রাম পুলিশের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছেন ডিসিরা। তার মধ্যে একজন মহিলা গ্রাম পুলিশ থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস কিংবা ১ বছর আগে উচ্চ আদালতে পাতানো মামলা দিয়ে দীর্ঘকাল দায়িত্বপালন করেন। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক বসানোর প্রস্তাব করেছেন ডিসিরা। সনাতন দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি তুলে দিয়ে ডিজিটাল দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করেছেন ডিসিরা। এর ফলে মোহরারগণের অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ হবে। দালালের দৌরাত্ম্য কমবে। দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হয়রানি শিকার হচ্ছেন। হাইকোর্ট থেকে রিট পিটিশনের নোটিশ ও আর্জির কপি সংগ্রহ করা সময় সাপেক্ষ, শ্রম ও ব্যয়সাধ্য বিষয়। অনেক সময় এই নোটিশ যথা সময়ে না পাওয়ায় আপিল কিংবা জবাব যথাসময়ে দেয়া সম্ভব হয় না। এতে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিঘ্ন হয়। উচ্চ আদালতে সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা দিন দিন বড়ছে। সেই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের করা সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলা পরিচালনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় কমিটি করে পরিচালনা করার প্রস্তাবও করেছেন ডিসিরা। অ্যাটর্নি সার্ভিসে কর্মরত জিপি এবং এজিপিগণের চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় তাদের জবাবদিহিতাও নাই। আইন কর্মকর্তা পরিবর্তনের ফলে অনেক সময় সরকারি স্বার্থ বিঘ্ন হয়। সেই ক্ষেত্রে স্থায়ী অ্যাটর্নী সার্ভিস চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

error: Content is protected !!