বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬ 
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / জাতীয় / ঘুষ ছাড়া ৭২ জনের চাকরি দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান

ঘুষ ছাড়া ৭২ জনের চাকরি দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান

মনিরুল ইসলাম মনি :

কোনো ধরনের ঘুষ ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে ৭২ জনকে চাকরি দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান। ঘুষ ও অনৈতিক সুবিধা ছাড়াই পুলিশ নিয়োগের যে ঘোষনা দেয়া হয়েছিল তার সঠিক বাস্তবায়ন করতে পেরে নিজেও গর্বিত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান।

সাতক্ষীরায় গত ২২ জুন থেকে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই বাচাই ও লিখিত পরিক্ষা শেষে ২৬ জুন যোগ্য এবং মেধাবী প্রার্থীদের নির্বাচিত করা হয়। সর্বশেষ ৭ জুলাই দেশব্যাপী পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়।

আবেদনকারি ১৩২০ জনের মধ্যে ৫২২ জন প্রার্থীর আবেদন ফর্ম বাতিল হয়। ৭৫৮ জন লিখিত পরিক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীর মধ্যে সম্পূর্ন মেধার ভিত্তিতে ৭২ জনকে নির্বাচিত করা হয়। এরমধ্যে পুরুষ-৫৯ জন, সাধারণ নারী-১৩ জন। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৮ জন, পোষ্য-৬ জন, এতিম-১ জন ও আনসার কোটায়-১জন।

আজ দুপুর ১২টার সময় সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান। এসময় সদস্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৭২ জন পুলিশ সদস্য ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। ঘুষ ও দূর্নীতি পরিহার করে দেশ সেবার মাধ্যমে সবাই রাষ্ট্রের কাজে নিজেদের আত্মনিযোগ এবং উৎসর্গ করার জন্য পুলিশ সুপার নিয়োগপ্রাপ্তদের উপরে হাত তুলে শপথ বাক্য পাঠ করান।

এবার চুড়ান্ত পর্যায়ে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই হত দরিদ্র ও দিন মজুরের সন্তান। তাদেরই একজন তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামের সুজাতআলী গাজীর ছেলে লাভলুর রহমান। তিনি জানান, তার বাবা একজন শ্রমিক। দুই ভাই এক বোনের সংসারে দিন আনা দিন খাওয়া।

ইটভাটায় কাজ করে খুব কষ্টে তাদের বাবা সংসার চালান। লাভলু জানায় ১০৩ টাকায় যে তার চাকরি হবে তা সে জীবনে কল্পনাও করতে পারেনি। দালালের খপ্পরে পড়বেন না, পুলিশের চাকরিতে করতে টাকা লাগে না। জেলা পুলিশের এমন মাইকিং শুনে মাঠে দাঁড়াই। বিনা টাকায় চাকুরির কথা বলতেই চোখে পানি চলে তার। বাপ-মায়ের অভাবের সংসারে চাকরিটা তার খুব দরকার ছিল লাভলুর। পুলিশ সুপারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সৎভাবে চাকরি পেয়ে সে সৎভাবে চাকরি করে দেশ ও জনগণের সেবা করতে চায়।

এদিকে কালিগঞ্জ উপজেলার মৃত মোকলেসুর রহমানের ছেলে এতিম মনিরুজ্জামান বলেন, ৮/১০ বছর আগে বাবা-মা দু’জনেই মারা গেছেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই বিয়ে করে অনেক আগেই আমাকে ছেড়ে ঢাকা চলে গেছেন। অন্যের ক্ষেত-খামারে কাজ করে নিজের পেট চলে। চাকুরি করতে টাকা আর মামা-খালু লাগে। কিন্তু এতিম হয়ে বিনা যোগাযোগে টাকা ছাড়াই পুলিশের চাকরি পাবো কখনো কল্পনা করেনি। রেজাল্টের পরে চাকুরির হয়েছে খবর পেয়ে এখনো ভাবতে আমার কষ্ট হয়। পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমানের কারনে তার চাকুরি সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। দেশ সেবায় কখনো দূর্নীতি করবেন না বলে অঙ্গিকার করেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার সুপার সাজ্জাদুর রহমান জানান, ঘুষ দূর্নীতি ছাড়াই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের ১০ দিন পূর্ব থেকেই মাইকিং,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়। আর্থিক লেনদেনসহ সব অনিয়ম ও সুপারিশ পরিহার করে সুষ্ঠুভাবে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়টি সম্পন্ন করা হয়। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরে নিজেকে খুশি ও গর্বিত বলে মনে করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( পুলিশ সুপার পদে পদন্নতিপ্রাপ্ত) মো: ইলতুৎমিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজী সালাউদ্দিন (সদর সার্কেল), জামিরুল ইসলাম (কালিগঞ্জ সার্কেল) সহ-কারী পুলিশ সুপার (তালা সার্কেল) হুমায়ন কবির প্রমূখ।

 

 

 

 

error: Content is protected !!