মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭ 
Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home / সাতক্ষীরা / আশাশুনি / সাতক্ষীরার কুচিয়া সিঙ্গাপুরে!

সাতক্ষীরার কুচিয়া সিঙ্গাপুরে!

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার উপকুলীয় এলাকায় কুচিয়া (কুচি) মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে। প্রাকৃতিক ভাবে জন্মনো এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে মোটাতাজা করার পর তা চায়না, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে খামারীরা বলছেন, সরকারী পৃষ্টোপোষকতা পেলে আরো সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে সাতক্ষীরার কুচিয়া রপ্তানি।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কোদনদাহ গ্রামের নিতাই চন্ত্র দাশ জানান, বেসরকারী একটি এনজিও‘র আর্থিক সহাতায় গত দুই বছর যাবত নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন কুচিয়া মোটাতাকাকরণ খামার। তার খামারে ছোট বড় কয়েক হাজার কুচিয়া রয়েছে।

খামারী নিতাই চন্দ্র জানান, স্থানীয় ভাবে এসব কুচিয়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কিনে তা খামারে পরিচর্জা করেন। ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের কুচিয়া সংগ্রহ করে দুই থেকে আড়াই মাস পরিচর্জা করার পর তা একেকটি কুচিয়ার ওজন হয় ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত। এর পর স্থানীয় ভাবে প্রতি কেজি কুচিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।

তিনি আরো জানান, বছরের বারো মাসই কুচিয়া মোটাতাজা করেন। এতে তার খামার ও অন্যান্য খরচ তুলে প্রতি মাসে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা লাভ হয় বলে জানান তিনি। তবে সরকারী ভাবে সহযোগিতা পেলে উপকুলীয় এলাকার কুচিয়া রপ্তানিতে আরো সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি।

একই গ্রামের গৃহবধু ফুলজান বিবি ও ছন্দা রানী জানান, সংসারের কাজের পাশাপাশি বাড়িতে কুচিয়া মোটাতাজা করেন। এলাকার বিভিন্ন মৎস্য ঘের থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে খামারে মোটাতাজা করছেন। এসময় কুচিয়ার জন্য তারা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন কেচো, ছোট তেলাপেয়া মাছ ও চিংড়ি মাছ। গৃহবধু ফুলজান বিবি ও ছন্দা রানী জানান, তারা সংসারের কাজকর্ম করেও প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার করে আয় হচ্ছে কুচিয়া‘র খামার থেকে।

উন্নয়ন সংস্থা নামে খুলনা ভিত্তিক একটি এনজিও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলাতে কুচিয়া মোটাতাজাকরনে খামারীদের প্রশিক্ষনসহ অন্যান্য সহযোগিতা করছে। উন্নয়ন সংস্থা‘র আশাশুনি উপজেলার দায়িত্ব থাকা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর রেজা জানান, পি.কে.এস.এস আর্থিক সহায়তায় আশাশুনিতে ১৬ টি কুচিয়া মোটাতাজাকরন খামার গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় ভাবে সংগ্রহ করা কুচিয়া এসব খামারে পরিচর্জা করার পর তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি আরো জানান, ঢাকার উত্তরা এলাকার কিছু রপ্তানিকারক প্রতিষ্টান সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে চায়না, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুর রপ্তানি করছে।

আশাশুনি উপজেলার উজিরপুর বাজারের পাইকারী কুচিয়া ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান আসিফ এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মো. আব্দুস সালাম জানান, খামারীদের কাছ থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে তা ঢাকার উত্তরা এলাকার কয়েকটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্টানের কাছে বিক্রি করেন। তিনি জানান, প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ মেট্রিকটন পর্যন্ত কুচিয়া উত্তরায় সরবরাহ করেন তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, চিংড়ি ও কাকড়ার পরই কুচিয়া রপ্তানিতে সাতক্ষীরা বেশ সম্ভাবনাময়। কিন্ত কুচিয়া চাষের জন্য সরকারী ভাবে কোনো প্রকল্প সাতক্ষীরাতে আসেনি। তিনি আরো বলেন, গত অর্থবছর কাকড়া মোটাতাজাকরণ একটি প্রকল্প সাতক্ষীরাতে ছিলো। সেটি গত জুনে শেষ হয়ে গেছে। তবে আগামীতে কুচিয়া চাষের উপর প্রকল্প গ্রহনের চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানান তিনি।

error: Content is protected !!